বাংলাদেশে শিল্প জাতীয়করণ সমস্যাগুলো কি কি? - What are the problems of industrial nationalization in Bangladesh?

বাংলাদেশে শিল্প জাতীয়করণ সমস্যাগুলো কি? - What are the problems of industrial nationalization in Bangladesh?
Follow Our Official Facebook Page For New Updates


Join our Telegram Channel!

বাংলাদেশে শিল্প জাতীয়করণ সমস্যাগুলো কি কি?

বাংলাদেশে শিল্প জাতীয়করণ সমস্যাগুলো আলোচনা কর ।

ভূমিকা: বাংলাদেশ সরকার স্বাধীনতার পর পরই ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ তারিখে এদেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি প্রবর্তন এবং সুসম বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে শিল্প জাতীয়করণ করে। জাতীয়করণের লক্ষ্য হলো মানুষের জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও কল্যাণ আনয়ন করা। 

বাংলাদেশে শিল্প জাতীয়করণের সমস্যা : 

বাংলাদেশের শিল্প জাতীয়করণের সমস্যাসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলো :

১. শিল্পের জাতীয়করণ ছিল আংশিক : 

জাতীয়করণ ব্যবস্থার সূচনালগ্নে তৎকালীন সরকার দেশে শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর ছিল। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় যে, যদি শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই প্রধান উদ্দেশ্য হয়, তাহলে সর্বপ্রধান ও সর্ববৃহৎ খাত কৃষির ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা গৃহীত হলো না কেন? কাজেই বলা যায় যে, বাংলাদেশে গৃহীত জাতীয়করণ ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ ছিল না। এটি ছিল আংশিক

২. সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ : 

বাংলাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বিগত কয়েক বছরে নানাভাবে সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ ও রাজনৈতিক চাপের শিকার হয়েছে। সংগত কারণেই তাদের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতি এসব শিল্পের উৎপাদনকে ব্যাহত করছে দরুণভাবে। সুতরাং বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে বাংলাদেশের শিল্প-কারখানাগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে হবে।

৩. উদ্যোগের অভাব : 

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পে প্রতিষ্ঠানসমূহে ব্যক্তিগত মালিকানা না থাকায় ব্যবস্থাপকদের মধ্যে উদ্যোগের দারুণ অভাব পরিলক্ষিত হয়। এখানে কর্মরত লোকদের ব্যক্তিগত প্রয়াসের তেমন কোনো মূল্য দেওয়া হয় না। তাই কেউ কোনো ব্যক্তিগত উদ্যোগ গ্রহণ করে না। ফলে উদ্যোগ না থাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পগুলো উৎপাদনের ক্ষেত্রে কখনো উৎকর্ষ লাভ করতে পারে না। 

৪. দায়িত্বহীন প্রশাসন : 

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পসমূহের অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও দলীয় কারণে কর্মকর্তাদের নিয়োগ দান করা হয়। ব্যক্তিগত গুণাবলি ও যোগ্যতা অপেক্ষা দল বা রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি আনুগত্যের ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ দান করা হয়। ফলে এখানে অদক্ষ ও দায়িত্বহীন প্রশাসন গড়ে উঠে। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

৫. বিশেষ পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ : 

যুদ্ধ-বিধ্বস্ত অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে তৎকালীন সরকার জাতীয়করণের ন্যায় একটি 'ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। কাজেই বলা চলে যে, বাংলাদেশে জাতীয়করণ নীতি একটি বিশেষ ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতে জন্ম লাভ করেছিল। এটি সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট সামাজিক দর্শনের প্রতি অনুরাগ থেকে উদ্ভূত হয়নি। ফলে জাতীয়করণকৃত শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের ৯২% স্থায়ী সম্পদ সরকারি নিয়ন্ত্রণে থেকে যায়। বর্তমানে বিরাষ্ট্রীয়করণ প্রক্রিয়া চলছে। 

৬. ব্যক্তিস্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ : 

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণত পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা চালু থাকে। সেসব দেশে গণতন্ত্র ও জাতীয়করণ নীতি পাশাপাশি চালু থাকতে পারে না। এখানে ব্যক্তিস্বাধীনতাকে যথেষ্ট মূল্যায়ন করা হয়। এসব রাষ্ট্রে ব্যক্তিকে স্বাধীনভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করার অধিকার প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে জাতীয়করণ ব্যক্তিস্বাধীনতার উপর সরকারি হস্তক্ষেপ বলে আখ্যায়িত করা হয়। বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে এখানে জাতীয়করণ নিরুৎসাহিত করা হয়।

৭. প্রতিযোগিতার অভাব : 

বাংলাদেশের ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন করা হয় মূলত অধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উন্নতমানের রুচিশীল পণ্য উৎপাদনের প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায়। এতে ভোক্তা পছন্দমতো পণ্য তুলনামূলক কম দামে কিনতে পারে। এছাড়াও এতে সুষ্ঠু উৎপাদনের জন্য সুষম সমন্বয় সাধন করা সম্ভব হয়। জাতীয়করণকৃত প্রতিষ্ঠানে মাথাভারী প্রশাসন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ইত্যাদি বিদ্যমান থাকায় অদক্ষতার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে উৎপাদন কমে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। তাই এক্ষেত্রে জাতীয়করণকে সমর্থন করা যায় না।

৮. সুষ্ঠু সমন্বয়ের অভাব : 

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প বিভাগ, সেক্টর কর্পোরেশন এবং শিল্প ইউনিট -এ তিন ভাগে বিভক্ত থাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব দেখা দেয়। ফলে শিল্পের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। জাতীয়করণকৃত শিল্প প্রতিষ্ঠানে কেউ অধিক পরিশ্রম করে বেশি উৎপাদন করার কোনো চেষ্টাই করে না। প্রত্যেকেই সমন্বয়ের অভাবে দায়সারা গোছের কর্ম সম্পাদন করে থাকে। তাই বাংলাদেশে শিল্পের জাতীয়করণকে সমর্থন করা যায় না।

উপসংহার : 

উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে এ ধারণার উপর ভিত্তি করে সরকার দেশের প্রধান প্রধান শিল্পসমূহকে রাষ্ট্রায়ত্ত করে। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা প্রভৃতি কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ কোটি কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের এরূপ দূরাবস্থা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

নিত্য নতুন সকল আপডেটের জন্য জয়েন করুন

Telegram Group Join Now
Our Facebook Page Join Now
Class 8 Facebook Study Group Join Now
Class 7 Facebook Study Group Join Now
Class 6 Facebook Study Group Join Now

Post a Comment